কুরআন নারীদের কেন শস্যক্ষেত বলেছে ?
এখানে দুইজন চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরবো...
নীলু দা - কুরআনে নারীদের কে কেন শস্যক্ষেত বলেছে, এতে নারীদের কে অপমান করা হয়েছে।
সাজিদ বলতে শুরু করলো কুরআনের অন্যতম একটি বড় দিক হচ্ছে চমৎকার ভাষাশৈলী। কিন্তু কিছু কিছু ব্যাপারে সহজে বুঝানো জন্য উপামা ব্যবহার করা হয়েছে। উপামাগুলো গভীরভাবে চিন্তা করলে তুমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাবে।
নীলু দা - তার মানে বলতে চাইছো নারীদের শস্যক্ষেত বলে কুরআন উপামা ব্যবহার করেছে।
সাজিদ -হ্যা, ঠিক তাই।
নীলুদা - মাই গুডনেস বা সাবাশ। এই শস্যক্ষেত শব্দটির মধ্যে তুই উপামা খুজে পাচ্ছিস। তুই কবে থেকে এতো অন্ধবিশ্বাসী হলে।
সাজিদ -শস্যক্ষেত্র শব্দটি ঝলসানো রুটির চেয়েও খারাপ। মানে সুকান্ত যখন পূর্ণিমার চাঁদ কে ঝলসানো রুটির সাথে তুলনা করে উপামা দেয় তখন তোমাদের কাছে বৈখাপ্প লাগে না। কিন্তু কুরআন যখন শস্যক্ষেত বলেছে তাতে তোমার আপত্তি।
চুপ মেরে গেল নীলু দা।
সাজিদ - শস্যক্ষেত উপামা দিয়ে কুরআন নারীদের অপমান করে নি বরং প্রকৃতিকভাবে সৌন্দর্যের উপামা দিয়েছেন।
সাজিদ দেখো নীলু দা নারী সন্তান জন্ম দেয় তাদের বুকে আগলে রাখে। বুকের দুধ পান করিয়ে বড় করিয়ে তোলে।
আমরা যদি সন্তানকে শস্য আর নারীকে তার ক্ষেত বিশেষ তুলনা করি। তাহলে কি শস্যক্ষেত্র বলা যায় না।
নীলু দা যতই যুক্তি দেখাও না কেন শস্যক্ষেত নারীদের জন্য যথেষ্ট অপমানজনক এবং অসম্মানের বলে আমি মনে করি।
সাজিদ, একজন কৃষকের কাছে শস্যক্ষেত্রের চেয়ে আপন কি হতে পারে? তা তুমি জানো।কৃষক তার শস্যক্ষেত যেমন ইচ্ছে চাষ করতে পারে যেমন, লম্বাটে কিংবা সোজা। এতে যেন ফসলের ক্ষতি না হয়।
কোরআনে ঠিক এই উপামা টেনে বলেছে - "তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে যেভাবে ইচ্ছে সহবাস করো সামনের দিকে অথবা পেছনের দিকে হতে করে তোমাদের সন্তানরা ট্যারা হয়ে না জন্মবে না। এটা একটি কুসংস্কার। এই কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসো "। কুরআন পুরুষ কে কৃষক এবং নারীকে শস্যক্ষেত বানিয়ে বলেছে - " নারীরা হল তোমাদের শস্যক্ষেত স্বরুপ। তোমাদের শস্যক্ষেত্রের জন্য যেমন উত্তম বীজ, সার এবং উত্তম পরিচর্যার ব্যবস্থা করে থাকো, ঠিক সেইভাবেই তোমাদের স্ত্রীদের সাথে তেমন উত্তম আচরণ, উত্তম কর্ম সম্পাদন করবে। "
নীলু দা চুপ করে রইলো।
সাজিদ - নারীদের শস্যক্ষেত বলে যদি কুরআন অপমান করে থাকে তা হলে একই সূরায় ১৮৭ নাম্বার আয়াতে যে বলা হয়েছে, " তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য বস্ত্রসরুপ আর তোমরা তাদের জন্য বস্ত্রসরুপ। " বা They (your wives) are clothing for you and are clothing for them.
এই আয়াতে পুরুষদের নারীর বস্ত্রের সাথে তুলনা করেছেন। বলো তো কাপড়ের মতো তুচ্ছ জিনিসের সাথে তুলনা করে কি পুরুষদের অপমান করেছে?
না, একদমই না।
মূলত এই উপামা দিয়ে আল্লাহ সুবানাহ ওয়া তাআলা বুজিয়েছন --- স্বামী এবং স্ত্রী একে অপরের খুবই কাছের। তারা এতোটাই কাছের যেভাবে কাপড় শরীরের সাথে লেপ্টে থাকে।
নীলু দা আর প্রশ্ন না করে চুপ করে রইলো।
সাজিদ বলল, তুমি তোমার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছ, নীলু দা।
নীলু দা, ঠোট কুমছি করে মাথা নাড়ালো ।।
সত্যের পরে থাকো

Comments
Post a Comment